1. mumin.2780@gmail.com : admin : Muminul Islam
  2. Amenulislam41@gmail.com : Amenul :
  3. rajubdmmail01@gmail.com : A Haque Raju : A Haque Raju
  4. smking63568@gmail.com : S.M Alamgir Hossain : S.M Alamgir Hossain
কুলাউড়ায় জীবন যুদ্ধে জয়ী সংগ্রামী দুই প্রতিবন্ধী যুবক! - আলোরদেশ২৪

কুলাউড়ায় জীবন যুদ্ধে জয়ী সংগ্রামী দুই প্রতিবন্ধী যুবক!

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০
  • ৩৭৬ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জীবন যুদ্ধে লড়ে নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে জয়ী হতে চায় সংগ্রামী দুই প্রতিবন্ধী যুবক। তারা পরনির্ভরশীলতা ছেড়ে নিজ উদ্যোগে প্রতিবন্ধীর প্রতিবন্ধকতা ছাড়িয়ে মুখরিত কর্মময় জীবনে এগিয়ে যেতে চায় বহুদুর। একজন জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী আর আরেকজন জন্মের এক বছর পর পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে আজ অবদি প্রতিবন্ধী হয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের উপার্জনে স্ব স্ব পরিবার আজ অনেক সাবলম্বী।

সরেজমিন তাদের সঙ্গে আলাপ করলে উঠে আসে তাদের জীবনের সাফল্য ও সংগ্রামের অনেক রূপকথার গল্প। প্রতিবন্ধী ফখর উদ্দিন (৩২), বরমচাল ইউনিয়নের খাদিমপাড়া গ্রামের ছনর উদ্দিন ও সাহারা বেগমের পুত্র। টানাপোড়নের সংসারে ৪ বোন ও ৩ ভাইয়ের মধ্যে সে ৫ম। ফখর উদ্দিন জন্মের সময় সুস্থ্য-সবল থাকলে জন্মের এক বছর পর সে পোলিও রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে টাইফয়েড হয়ে যায়। এরপর বা পায়ের রগ টান দিলে সেই পা তখনই অবস হয়ে যায়, কার্যত সেই সময় থেকেই সে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে।

তৎকালীন সময়ে ভালো কোনো ডাক্তারের চিকিৎসা না নিতে পারায় সে আর সুস্থ্যভাবে ভালো হয়ে উঠতে পারেনি। লেখাপড়ার প্রতি প্রবল মনযোগ থাকলেও পরিবারের নানা অসুবিধায় হাইস্কুলের গন্ডি পেরোনো হয় নি তার। বরমচাল স্কুল এন্ড কলেজে মাত্র ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে শিক্ষা জীবনের যবনিকা ঘটে। এরপর নিজে কখনো পরিবারের বোঝা হয়ে থাকতে চান নি। প্রতিবন্ধীকতাকে পেছনে ফেলে চ্যালেঞ্জিং নিয়ে শুরু করেন তার নতুন জীবন সংগ্রাম। প্রায় ১০ বছর আগে সিলেট করিমউল্লাহ মার্কেটে মোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর হাতে কলমে শিক্ষা নেন। এরপর নীজে ব্রাহ্মণবাজার লির্বাটি মার্কেটে এ ওয়ান টেলিকম নামে একটি দোকান খুলে বসেন। এরপর থেকে আর পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি ফখরুদ্দীনকে। মোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এর পাশাপাশি নতুন পুরাতন মোবাইল ক্রয় বিক্রয় করে সে এখন আপমদস্তক একজন ব্যবসায়ী।

ফখরুদ্দীন জানায়, প্রতিবন্ধী হওয়ায় এক সময় নিজকে পরিবারের বুঝা ও খুব অসহায় মনে হতো, কিন্তু নীজের পায়ে দাড়িয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলায় আজ খুব খুশি লাগছে। প্রতি মাসে তার এই দোকান থেকে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে বলে সে জানায়। আর এই আয়ের ফলে বর্তমানে তাদের পরিবার অনেকটা স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। সে প্রতিবন্ধী হিসেবে এই সংগ্রাম চালিয়ে গেলেও সরকারীভাবে প্রতিবন্ধীর তালিকায় এখনো নাম উঠেনি তার। তবে প্রথমবারের মতো গত বছরের ডিসেম্বরে একটি সংস্থা থেকে ইউনিয়নের মাধ্যমে ১১ হাজার টাকা পেয়েছিলেন।

ফখরুদ্দীন বলেন, সরকারিভাবে যদি কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে তার এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরো বড় পরিসরে গড়ে তুলার স্বপ্ন রয়েছে।

প্রতিবন্ধী জুয়েল মিয়া (১৯) ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের গুড়াভুই গ্রামের দরিদ্র কুদ্দুস মিয়া ও মিরিজা বেগমের পুত্র সে। এক ভাই ও এক বোনের সংসারে সে বড়। জন্মের পর থেকে সে প্রতিবন্ধী হয়ে আছে। তার ডান পা জন্মগতভাবে অচল। অভাবের সংসার থাকায় জুয়েলকে ভালো কোনো ডাক্তার আজ পর্যন্ত দেখাতে পারেন নি তার দরিদ্র মা-বাবা। যার কারণে সেই ছোট বেলা থেকে সে হুইল চেয়ারে করে ভিক্ষাবৃওি পেশায় নেমে পড়ে। বিভিন্ন জায়গার মানুষের কাছ থেকে ভিক্ষা ও সাহায্য নিয়ে কোনো রকম তার অভাবের সংসার চালিয়ে থাকলেও বর্তমানে আগের মতো ভিক্ষা বৃত্তি পেশায় তেমন আর উপার্জন নেই।

এ ছাড়াও মানুষের নানা কথা শুনে সে মনে মনে জিদ নেয় আর ভিক্ষা বৃত্তি করে অন্যের সাহায্যর দিকে চেয়ে থাকবে না। এরপর সে সিদ্বান্ত নেয় নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে পরিশ্রম করে তার অভাবের সংসারের হাল ধরবে। প্রতিবন্ধী থাকার পরেও জীবন যুদ্বে টিকে থাকার লক্ষে শুরু করে তার নতুন সংগ্রাম। ভিক্ষা বৃত্তি ছেড়ে ধরে রিক্সার হাতল। প্রতিবন্ধী থাকায় রিক্সা চালাতে কষ্ট হলেও নিজ উদোগে টাকা উপার্জন করায় এখন প্রতিবন্ধী জুয়েল বেশ আনন্দিত। ভাড়ায় রিক্সা চালিয়ে ইতিমধ্যে আয়ের টাকা দিয়ে তার বোনকে বিয়েও দিয়েছে। কষ্ট করে রিক্সা চালাতে দেখে স্থানীয় সামিনা বারী হেলথ সংস্থার কর্ণধার আবুল কালাম প্রতিবন্ধী জুয়েলকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা ক্রয় করে দেন। মূলত এরপর থেকে তার অভাবের জীবন পাল্টে যেতে শুরু করে।

জুয়েল জানায়, এক সময় ভিক্ষাবৃত্তি করে অনেক কষ্টে তাদের মানবেতর জীবন-যাপন করতে হয়েছে, সাহায্যর জন্য মানুষের কাছে গেলে নানান কথা শুনতে হতো কিন্তু এখন নিজে পরিশ্রম করে টাকা আয় করতে পারায় অনেল খুশি লাগে। প্রতিদিন ৫০০-৭০০ টাকা সে আয় করে থাকে। এ ছাড়াও প্রতিবন্ধী হিসেবে সরকারিভাবে প্রথমে কোনো টাকা না পেলেও কয়েক বছর থেকে প্রতি তিন মাস পর পর ২১‌‘শ টাকা পায় বলে সে জানায়। দুই প্রতিবন্ধী যুবকের হার না মানা অভাবনীয় সাফল্য দেখে এলাকার অনেকেই আজ বিস্মিত।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. নূরুল মাহমুদ ভূঁইয়া জানান, প্রতিবন্ধীদের মধ্যে যারা লেখাপড়া করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তালিকা করে আমাদের দিচ্ছে আমরা শতভাগ ভাতা তাদেরকে দিচ্ছি।

এ ছাড়াও যারা প্রতিবন্ধী হিসেবে আমাদের ডাটা এন্ট্রিবেইজে রয়েছে আমরা তাদেরকে শতভাগ না পারলেও ৯৫ ভাগ লোককে বর্তমানে ভাতা দিয়ে যাচ্ছি। আর যারা এখনো আমাদের ডাটাবেইজের তালিকাভুক্ত হয়নি তাদের তালিকা করে চলতি অর্থ বছরের মধ্যে সকল প্রতিবন্ধীদের শতভাগ ভাতা নিশ্চিত করা হবে।

শেয়ার..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন...

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

বিজ্ঞাপন

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | আলোর দেশ ২৪ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Developed By Radwan Ahmed