1. mumin.2780@gmail.com : admin : Muminul Islam
  2. Amenulislam41@gmail.com : Amenul :
  3. smking63568@gmail.com : S.M Alamgir Hossain : S.M Alamgir Hossain
আদমপুর বাজারে দ্বীনি খেদমতের পাশাপাশি ব্যবসা - আলোরদেশ২৪

আদমপুর বাজারে দ্বীনি খেদমতের পাশাপাশি ব্যবসা

  • প্রকাশিত : সোমবার, ৩ মে, ২০২১
  • ১১৪৫ বার দেখা হয়েছে

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি মোঃ মহিউদ্দিন খান।।
বৈশ্বিক মহামারী করোনার সময় অবরুদ্ধ হয়ে বহু মানুষ যখন কর্মসংস্থান হারাচ্ছিল, একজন আলেম হয়েও যে ব্যবসা করা যায় এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আদমপুর বাজারে হাফেজ মুফতি নুরুল হুদা ‘ইসলামিক সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন ৷

আদমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিলকপুর গ্রামের মণিপুরি মুসলিম সম্প্রদায়ের ৩০ বছর বয়সী এই তরুণ হাফেজ  মুফতি মোঃ নুরুল হুদা দীর্ঘদিন ঢাকায় ফরিদাবাদ মাদ্রাসা, আছতাফ নগর মাদ্রাসা  সহ বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষার্থী হয়ে প্রায় ১৫ -১৬ বছর ধরে পড়াশোনা সমাপ্ত করে ১ বছর দাওয়াত  তাবলীগে মেহনতের সাথে সময় দেওয়ার পর এলাকায় এসে দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হয়ে বর্তমানে দ্বীনি খেদমত করার পাশাপাশি ব্যবসা করেন৷

পরিবারের সবার জন্য উপহার কেনা শেষ। এবার নিজের জন্য চাই নতুন টুপি। আর গায়ে আতরের সুগন্ধি। এসব ছাড়া যেন ঈদের কেনাকাটা পূর্ণ হয় না। আতর, টুপি বা জায়নামাজ যে শুধু ছেলেরাই কিনবে তা নয়। প্রিয়জনকে উপহার দিতে মেয়েরাও কিনতে পারে এসব দরকারি জিনিস।

এছাড়াও রেডি পাঞ্জাবী, তাসবীহ, মেসওয়াক, মহিলাদের  হিজাব, খিমার, বোরকা, কোরআন শরীফ, ইসলামিক বই সহ যাবতীয় সুন্নাহ সামগ্রীর বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান  আদমপুর বাজারে হাফিজিয়া মাদ্রাসার সামনে হাজী জালাল উদ্দীন মার্কেটে ২য় তলায়  ‘ইসলামিক সেন্টার’ সেখানে  এখন পাওয়া যাচ্ছে। 

হাফেজ মুফতি মোঃ নুরুল হুদা ইসলামিক সেন্টার সম্পর্কে বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই চাইতাম নিজে ব্যবসা করবো। শিক্ষাজীবনেই জেনেছিলাম আমাদের প্রিয় নবী সা. ব্যবসা করেছেন, ইমাম আবু হানিফা রহ.-সহ মুসলিম ইতিহাসের অনেক খ্যাতনামা আলেম ব্যবসা করেছেন, এমনকি নিকট অতীতের শায়খুল ইসলাম হোসাইন আহমদ মাদানি রহ. ১৮ বছর টুপি, রুমাল ও জায়নামাজ বিক্রি করেছেন।

নুরুল হুদা বলেন, আজ যদি আলেমরা বাস্তব জীবনে ব্যবসাকে উপেক্ষা না করে ব্যবসায়ী হতেন তা হলে ব্যবসা ক্ষেত্রে অনেক বেশি সততা ফিরে আসত। উলামায়ে কেরামরাও দ্বীনি খেদমত করতে গিয়ে  প্রায় দেখা যায় ইমাম, খতিব ও মাদরাসার উস্তাদরা ক্ষেত্রবিশেষ জনসাধারণ  অমানবিক কথা শুনতে হয়। এর পাশাপাশি যদি ব্যবসার মাধ্যমে আয়ের ভিন্ন উৎস তৈরি করা যেত; তা হলে এ প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি হতো না।

বর্তমানে আলেমরা ব্যবসার দিকে ধাবিত হচ্ছেন, এই বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে দারুস সালাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি খুবাইব আহমদ জাহাঙ্গীর বলেন, বিষয়টিকে আমি ইতিবাচক হিসেবেই দেখতে চাই।

কারণ, নবীজি সা. ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়, তারাও ব্যবসা করেছেন। হযরত আবুবকর, উমর, উসমান ও হযরত আবদুর বিন আউফ রা. অনেক বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। সুতরাং আলেমরা ব্যবসার দিকে ধাবিত হচ্ছেন এটি একটি ইতিবাচক দিক। এর দ্বারা আলেমরা স্বাবলম্বী হবেন, সমাজের প্রতি তাদের আর্থিক মুখাপেক্ষিতা কমবে। তারা পূর্ণ ইখলাসের সাথে দ্বীনি খেদমত করতে পারবেন।

ব্যবসা ও দাওয়াত এই দুই নিয়তেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিলেন পূর্বকালের আলেমরা। আর ইসলামের মহান আদর্শ পৌঁছে দিয়েছিলেন মানুষের ঘরে ঘরে। কালের আবর্তনে ইমানদারদের পছন্দনীয় পেশা ব্যবসা কলুষিত হয়েছে অন্যদের হাতে। তাই ব্যবসার ময়দানে আলেমদের পদচারণা ব্যাপক পরিসরে বাড়াতে হবে। তা হলে মসজিদ, মাদরাসা ও দ্বীনের অন্য কাজগুলো খেদমত হিসেবে করা সহজ হবে।

শেয়ার..

আরো সংবাদ পড়ুন...
© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | আলোর দেশ ২৪ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Developed By Radwan Ahmed