1. mumin.2780@gmail.com : admin : Muminul Islam
  2. Amenulislam41@gmail.com : Amenul :
  3. smking63568@gmail.com : S.M Alamgir Hossain : S.M Alamgir Hossain
জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পটি বাতিল। - আলোরদেশ২৪

জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পটি বাতিল।

  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৩০৪ বার দেখা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক নিউজ।।

দেশে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফাণ্ডের অর্থায়নে গৃহীত ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাগেরহাট জেলার রামপাল ও মোংলা উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ’ নামের প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরুতেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এরপর প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত রেখে অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। সর্বশেষ তদন্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে প্রকল্পের দুই-তৃতীয়াংশ কাজ বাকি রেখেই বাতিল করা হয় এ প্রকল্প।

বিশেষ সূত্র মতে, গরীব ও দুস্থ মানুষের মাঝে সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে স্বয়ংক্রিয় সৌরচালিত পানি বিশুদ্ধকরণ ইউনিট স্থাপনের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ট্রাস্টি বোর্ডের ৫১তম সভায় ৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাট জেলার রামপাল ও মোংলা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২০২টি ‘স্বয়ংক্রিয় সৌরচালিত পানি বিশুদ্ধকরণ ইউনিট’ নির্মাণের কথা ছিল। 

এরপর ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ  শুরু হয়। তা ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরপর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও বাস্তবায়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগে প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে শুনা যায় যে,
২০২০ সালের জুলাই মাসের দিকে বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা

ইউনিয়নে প্রথম পানি বিশুদ্ধকরণ ইউনিটের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের না জানিয়েই ১৫টি ইউনিট নির্মাণ করা হয়। উপকারভোগীদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দায়সারা ভাবে প্রকল্পের কাজ শুরু করার অভিযোগ ওঠে। 

তবে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের দেখার নির্দেশ দেন ওই আসনের সংসদ সদস্য পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার। এরপর সেই ১৫টি ইউনিট ভেঙ্গে পুনরায় নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে প্রকল্পটি মেয়াদকালে (২০২০ সালের ডিসেম্বর) মোংলায় ১৩৫টির মধ্যে ৪৪টি এবং রামপালে ৬৭টির মধ্যে ২৬টি ইউনিট নির্মাণ করা হয়। কিন্ত নির্মাণের পরপরই বেশির ভাগ ইউনিট ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

এ সকল অনিয়ম ও দুনীতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের পরিচালক শুভাশীষ সাহাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদন্ত করে

অভিযোগের সত্যতা পান। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন-২ শাখার পত্রে প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়ন এলাকায় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে অনুমোদিত প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট তথ্য সম্বলিত দৃশ্যমান সাইনবোর্ড স্থাপন করার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তা দেখা যায়নি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রকল্পের নির্মাণ কাজ দেখভালের দায়িত্বে এলাকায় তেমন

কাউকে দেখা যায়নি। ইউনিটগুলো পরিকল্পনাবিহীন নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে সোলার প্যানেল বসানো হলেও তা কোনো কাজে আসছে না।

তবে স্থানীয় পুকুর দিয়ে পানি এনে বড় পানির ট্যাকিংতে রাখার সিস্টেম করা হলে পানি তোলার নাই কোনো ব্যবস্থা। পানির প্লান্ট তৈরির কিছু দিনের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে গেছে।
মোংলা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সোহান আহমেদ জানান যে, তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকল্পটি বাতিল হয়েছে।

তিনি আরও বলেন যে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও কিছু কিছু অভিযোগ ওঠে। এরপর বাস্তবায়ন অনুপোযোগী হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রকল্পটি বাতিল হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মোংলা উপজেলায় ১৩৫টির মধ্যে ৩৫টি ও রামপাল উপজেলায় ৬৭টির মধ্যে ৩০টি পানি বিশুদ্ধকরণ ইউনিট নির্মাণ করা হয়েছে। বাকী সব ইউনিটগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থও ফেরত গেছে।

এমতাবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফাণ্ডের প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মনিটরিং আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ (এনসিসিবি)  প্রকল্পেে ব্যবস্থাপক (রিসার্চ এন্ড এ্যাডভোকেসি) ড. মুহাম্মদ ফররুখ রহমান। 

শেয়ার..

আরো সংবাদ পড়ুন...
© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | আলোর দেশ ২৪ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Developed By Radwan Ahmed