এম ইসলাম,কমলগঞ্জ প্রতিনিধি::
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ধনাই হাজী সড়ক সংলগ্ন লাউয়াছড়ার বাঁধ ভেঙে অন্তত ৭ থেকে ৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকার বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এতে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
প্লাবিত গ্রামের মধ্যে বন্দের গাঁও, তেতই গাঁও ও ধোড়ামাড়া উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। অনেক পরিবার বাড়িঘরে পানি ওঠায় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পানির তীব্র চাপে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের পাশাপাশি লাউয়াছড়ার বাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে মুহূর্তেই আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ।
পরিস্থিতির খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে উপস্থিত থেকে দ্রুত বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে, যাতে নতুন করে আরও এলাকা প্লাবিত না হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রতিবছরই এ অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে এবার পানির প্রবল স্রোতে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তারা স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাঁধ দ্রুত মেরামত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন।