কমলগঞ্জ প্রতিনিধি::

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সাথে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গত কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মুষলধারে বৃষ্টির পর উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে এলে ধলাই নদীর পানি বেড়ে যায়। এতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে।

কমলগঞ্জ পৌরসভার নবনির্মিত নালার মুখ ধলাই নদীর সঙ্গে যুক্ত করার কারণে ২, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ঢলের পানি প্রবেশ করছে। এতে পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে তিনটি ওয়ার্ডের প্রায় ২০০টি পরিবার ও ১০টি দোকান।
আজ (৫ই জুলাই) বুধবার দুপুরে কমলগঞ্জ পৌরসভা এলাকা ঘুরে দেখা যায় যে, ধলাই পুরাতন সেতুসংলগ্ন এলাকার নালা দিয়ে নদীর পানি ঢুকে পড়েছে সড়ক, কমলগঞ্জ থানা, ডাকঘর, কমলগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, কমলগঞ্জ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, কালীবাড়ী এবং আশপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাটে। এ ছাড়াও ভারী বর্ষণে পানি বেড়ে পতনউষার, আলীনগর, আদমপুর ও মাধবপুর এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনেন্দ্র কুমার দেব বলেন যে, ‘নালা দিয়ে ধলাই নদীর পানি এসে বিদ্যালয়ে ঢুকেছে। পানি ক্রমেই বাড়ছে। নিচতলার অফিসের সব কাগজপত্র সরিয়ে দোতলায় নিয়ে যাচ্ছি। পানি এ অবস্থায় থাকলে স্কুল বন্ধ থাকবে।’
কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জুয়েল আহমদ বলেন যে, ‘২, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে পানি প্রবেশ করেছে। এভাবে পানি বাড়লে বন্যা দেখা দেবে। পৌরসভার পক্ষ থেকে পানিবন্দি পরিবারগুলোকে শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে পানির নালার মুখ বন্ধ করার জন্য বালুভর্তি বস্তা ফেলার কাজ শুরু করেছি।’
মৌলভীবাজারের পানি উন্নয়ন বোর্ড জানাচ্ছে, ভানুগাছ রেল সেতু এলাকায় ধলাই নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
তবে উজানে ভারতীয় পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টি না কমলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: জাবেদ ইকবাল বলেন যে, উজানে ভারতীয় পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে ধলাই নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রমও করতে পারে।