সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করায়, সাংবাদিকসহ পাঁচজনের উপর মামলা কমলগঞ্জে জমি বিক্রয় সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১, আটক ১ কমলগঞ্জে গাছের সুরক্ষায় জামাল হোসেন এর উদ্যোগ কমলগঞ্জে দোকান চুরি পরের রাত বাড়িতে হামলা কমলগঞ্জে কিশোরীর ধর্মান্তর করে বিয়ে, ইউপি সদস্য সমাধানের আশ্বাস কমলগঞ্জে বিধবা নারীর ধানে কীটনাশক প্রয়োগের অভিযোগ কমলগঞ্জে পাতাকুঁড়ি সংস্থার বিরুদ্ধে সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গ্রাহক হেনস্তার অভিযোগ কমলগঞ্জে হামলায় আহত জহুর আলী, ৫০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ কমলগঞ্জে বাবার দুই সংসারে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, থানায় উভয় পক্ষের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে কমলগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন

শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করায়, সাংবাদিকসহ পাঁচজনের উপর মামলা

  • প্রকাশিত : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২১ বার দেখা হয়েছে

অনলাইন ডেক্স নিউজ::
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ এবং তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর আওতায় ১১টি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চাওয়ার জেরে দৈনিক ‘খোলা কাগজ’-এর মৌলভীবাজার জেলা স্টাফ রিপোর্টার ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সদস্য সচিব মো. এহসানুল হক (এহসান বিন মুজাহির)-এর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
গত ২৫শে অক্টোবর সিলেট সাইবার সিকিউরিটি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সদ্য বদলিকৃত সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. সিনথিয়া তাসমিন। তিনি বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. এহসানুল হক জানান যে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেয়াদহীন পাউরুটি ও নিম্নমানের কলা সরবরাহ’, ‘সরকারি হাসপাতালে রাতেও ওড়ে জাতীয় পতাকা, ‘শ্রীমঙ্গল সরকারি হাসপাতালে নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ, সচেতনমহলে ক্ষোভ’, ‘জেনারেটর-আইপিএস অচল মোমবাতিই ভরসা শ্রীমঙ্গল সরকারি হাসপাতালে’, ‘তদন্ত দাবির মধ্যেই অভিযুক্ত ডা. সিনথিয়াকে বদলি’ এবং ‘শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমএসআর সামগ্রী সরবরাহ নিয়ে বিতর্ক’।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা যাচাই করতে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর আওতায় টিএইচওর দায়িত্ব পালনসংক্রান্ত ১১টি বিষয়ে

আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ, প্যাথলজি ও ভর্তি রোগীদের কাছ থেকে আদায় করা ফির সরকারি চালানের অনুলিপি, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ও দরপত্রসংক্রান্ত তথ্য, জ্বালানি খরচ, সেবাগ্রহীতার সংখ্যা, বাড়িভাড়া জমার হিসাব, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা এবং অতীতে আইপিএস ও ব্যাটারি চুরির ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়।

সাংবাদিক এহসানের দাবি, এসব তথ্য চেয়ে আবেদন এবং হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের কারণেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। তিনি এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
মামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে এহসানুল হক বলেন, ‘চাঁদা দাবি বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ হাস্যকর ও অবাস্তব। এর বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। হামলা, মামলা বা ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার বস্তুনিষ্ঠ কলম থামানো যাবে না। সিআইডি, পিবিআই এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি বিনীত অনুরোধ, বিষয়টি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক।’

এদিকে আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, মানহানি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে দৈনিক জনবাণীর মৌলভীবাজার প্রতিনিধি মঞ্জু বিজয় চৌধুরীকে। মামলার দ্বিতীয় আসামি বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের নেতা মোজাহিদুল ইসলাম, তৃতীয় আসামি সাংবাদিক মো. এহসানুল হক, চতুর্থ আসামি ‘জেন জেড শ্রীমঙ্গল’ এবং পঞ্চম আসামি প্রবাসী আমির আলী।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন বেনামি ও মিথ্যা আইডি ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কুৎসা রটিয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট মুছে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবি করেছেন। সাইবার সুরক্ষা আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করে পুলিশ বা সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।
তবে মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অপর দুই আসামি মঞ্জু বিজয় চৌধুরী ও মোজাহিদুল ইসলাম। তাঁদের দাবি, হাসপাতালের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সঠিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজের প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি আড়াল করতেই তাঁদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করেছেন।

তাঁরা আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পূর্ববর্তী ও শ্রীমঙ্গলের কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত কথিত অনিয়ম-দুর্নীতি, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, চাকরিবিধি লঙ্ঘন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
শ্রীমঙ্গলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন মামলা দায়েরের ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ চর্চা নিশ্চিত করার স্বার্থে তাঁরা মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার..

আরো সংবাদ পড়ুন...
© ২০২৩ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | আলোর দেশ ২৪ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Developed By Arolaxltd